মুসলিম নর-নারীর জন্য পর্দা
পর্দা মুসলিম নারীর সৌন্দর্য। নারীর
মান-সম্মান, ইজ্জত-আবরুর রক্ষাকবচ
পর্দা। মায়ের
পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত
ঘোষণার মাধ্যমে নারীকে মহিমান্বিত করেছে
যে ইসলাম, নারীর মর্যাদা
রক্ষায় পর্দার অপরিহার্যতাকেও অনিবার্য
কর্তব্য বলে ঘোষণা করেছে
সেই ইসলামই।
পর্দার আবশ্যকতা সম্পর্কে ইরশাদ হচ্ছে, ‘আর
হে নবী! মুমিন মহিলাদের
বলে দাও তারা যেন
তাদের দৃষ্টি সংযত করে
রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানগুলোর
হেফাজত করে আর তাদের
সাজসজ্জা না দেখায়, যা
নিজে নিজে প্রকাশ হয়ে
যায় তা ছাড়া। আর
তারা যেন তাদের ওড়নার
আঁচল দিয়ে তাদের বুক
ঢেকে রাখে। তারা যেন
তাদের সাজসজ্জা প্রকাশ না করে,
তবে নিম্নোক্তদের সামনে ছাড়া স্বামী,
বাপ, স্বামীর বাপ, নিজের ছেলে,
স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের
ছেলে, বোনের ছেলে, নিজের
মেলামেশার মেয়েদের, নিজের মালিকানাধীনদের, অধীনস্থ
পুরুষদের যাদের অন্য কোনো
রকম উদ্দেশ্য নেই এবং এমন
শিশুদের সামনে ছাড়া যারা
মেয়েদের গোপন বিষয় সম্পর্কে
এখনো অজ্ঞ তারা যেন
নিজেদের যে সৌন্দর্য তারা
লুকিয়ে রেখেছে, তা লোকদের সামনে
প্রকাশ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে
সজোরে পদক্ষেপ না করে। হে
মুমিনগণ! তোমরা সবাই মিলে
আল্লাহর কাছে তওবা করো,
আশা করা যায় তোমরা
সফলকাম হবে’ (সুরা : নূর,
আয়াত : ৩১)।
পর্দা সম্পর্কে পবিত্র কোরআন আল্লাহপাক
ইরশাদ করেছেন, ‘তারা যেন তাদের
চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর
টেনে দেয়’ (সুরা : আহযাব,
আয়াত : ৫৯)।
পর্দা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক
ইরশাদ করেছেন, ‘এবং তোমরা স্বগৃহে
অবস্থান করবে, প্রাচীন জাহিলী
যুগের মতো নিজেদেরকে প্রদর্শন
করে বেড়িও না’ (সুরা
: আহাব, আয়াত : ৩৩)।
হজরত মাওলানা থানবী (রা.) পর্দাকে
তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন।
যথা- ১. সর্বনিম্ন পর্দা
: মুখমণ্ডল এবং হাতের কজি
ব্যতীত নারীর সমুদয় দেহ
পর্দাবৃত রাখা। ভিন্ন মতে
টাখনুর গিরা পর্যন্ত পায়ের
পাতা ব্যতীত গোটা দেহ
আবৃত রাখা ফরজ। ২.
মাধ্যমিক স্তর : মুখমণ্ডল, হাত
এবং পাসহ সবকিছুই বোরকা
দ্বারা আবৃত রাখা। ৩.
মহিলার শরীর পর্দায় আবৃত
করার সঙ্গে সঙ্গে তার
পরিধেয় বস্ত্রও আবৃত রাখা। এটা
হলো পর্দার সর্বোচ্চ স্তর।
যে সমাজের নারীরা পর্দায়
থাকে সে সমাজ আশা
করতে পারে একটি নিষ্কলঙ্ক
পবিত্র বিধৌত আলোকিত মা
জাতির।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন